সুরঞ্জনা

সুরঞ্জনা
-হোসনেয়ারা বেগম
সুরঞ্জনা!
মনে পরে
কোনো
এক বৈশাখী ঝড়ের রাতে
সিংহের
তাড়ানো হরিণীর ন্যায়
তুমি
এসেছিলে আমার জীবনে
থর-থর
কাঁপছিল মোর হিয়াখানি যেনো।
সুরঞ্জনা!আমি
অপার বিস্ময়ে
তাকিয়ে
ছিলাম ভাবনায়
আমার
তো ছিলো না কিছু জানা
শুধু
দেখেছি তোমার কালো হরিণ
চোখে
এক রাঁশ বেদনা।
সুরঞ্জনা!
তোমার পরে নাকো মনে?
সেদিনের
সেই কাব্য খানা
আমি
ছিলাম এক ব্যর্থ প্রেমিক
রাত
জেগে ক্যানভাসে পাগলের মতো
আকতাম
শুধু তার ব্যাঞ্জনা ।
সুরঞ্জনা!
আমার ঘোর লাগা চোখে
ক্যানভাসে
আঁকা ছবি আর তুমি
কি করে
এক হলো?
আজও
বুঝতে পারিনি আমি সেই বন্দনা।
সুরঞ্জনা!
তুমি এলে রং-তুলি গেল থেমে,
সূরার
পাত্র ভূতলে পরিল খসে,
একি
আমার স্বপ্ন নাকি কল্পনা।
সেই
একই টিকালো নাক
কালো
হরিণ চোখ,
সোনালী
চুলগুলো পরেছে গিবায়
কিছু
অবাধ্য চুল মুখে পরে
ছড়িয়েছে
জ্যোতি অয়ময়।
সুরঞ্জনা!
আমায় ছেড়ে আর যেওনা,
আমার
হ্নদস্পদন থেমে যাবে
ঐ দেখ
আমার হ্নদয় রক্তক্ষরণে
ফুটেছে
রক্ত জবা,
সুরঞ্জনা!
আমায় ছেড়ে যেওনা
যদি
যাও খামচে তুলে দেব
তপ্ত
আগুনে পোড়া হ্নদয় খানা,
সিংহল
সমুদ্র থেকে এনে দেব
নীল
পদ্ম,আমি চাই স্নিগ্ধ সুষমায় সান্ত্বনা।
সুরঞ্জনা!
আমায় ছেড়ে যেওনা
আমার
হ্নদায় ক্যানভাসে
রংতুলির
আঁচড়ে আঁচড়ে
ভরিয়ে
রাখব শুধু তোমার ছবি
এ ধরাতলে
যত সুখ আছে
সব এনে
দেব তোমার পায়ের নিচে।
সুরঞ্জনা!
তুমি চলে গেলে
অগ্নি
গিরির তপ্ত আগুনে পুড়ে
আমি
ভস্মীভূত হয়ে যাব
আমার
সাধের ক্যানভাসে
অর্ধসমাপ্তি
হয়ে থেকে যাবে
শুধু
তোমার ছবি খানা।